ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিন ধাপে অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সরকারের icon জাতীয় বাজেট পাস হবে মঙ্গলবার এবং কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে icon তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা icon স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন icon ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ, তথ্য চাইল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর icon বিদায়ের দিনেই এনবিআর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত চিঠি icon অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আহ্বান icon একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী icon বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী চীনের ১১ প্রতিষ্ঠান icon স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াত এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি

দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ শিল্পপ্রতিষ্ঠান

চাকরি নেই হাজার হাজার শ্রমিকের, উৎপাদন ও রপ্তানি খাতেও সৃষ্টি হয়েছে নেতিবাচক প্রভাব

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শিল্প খাত কঠিন সময় পার করছে


                            চাকরি নেই হাজার হাজার শ্রমিকের, উৎপাদন ও রপ্তানি খাতেও সৃষ্টি হয়েছে নেতিবাচক প্রভাব

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৮ June ২০২৬ | ১০:৪০

কার্যাদেশের সংকট, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সমস্যা, আর্থিক দুরবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে দেশের শিল্প খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। গত দুই বছরে দেশের ৪৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মহীন হয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক, আর উৎপাদন ও রপ্তানি খাতেও সৃষ্টি হয়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৯৮টি গাজীপুর, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড এবং ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড স্থায়ীভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। আর্থিক সংকটের কারণে ১৬ জুন থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠান দুটি আর পুনরায় চালু হয়নি। এ দুই কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮৭টি তৈরি পোশাক খাতের বাইরে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ১০৮টি, বিকেএমইএর ৩৫টি, বিটিএমএর আটটি এবং বেপজার আওতাধীন ১৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে উৎপাদন ও কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় ৭৯টি কারখানা থেকে ৭ হাজার ৭৮৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

এর আগে দেশের অন্যতম বড় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপও তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা হ্রাস, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া, ব্যাংকিং জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শিল্প খাত কঠিন সময় পার করছে।

এ পরিস্থিতিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম এবং সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল গঠন করেছে। একই সঙ্গে বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ থাকা কারখানার তথ্যও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কাছে চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের কঠোর শর্তের কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে না। গত ১৪ জুন বিজিএমইএর সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সব বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নেই, আবার অনেকের ঋণসংক্রান্ত তথ্যও সন্তোষজনক নয়। তাঁর মতে, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, কার্যাদেশ হ্রাস, কিছু প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়াত্ব এবং রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সময়মতো পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

সংগঠনটির সহসভাপতি শিহাব উদদোজা চৌধুরী জানান, প্রায় ২০০টি বন্ধ এবং ১২৩টি আংশিকভাবে বন্ধ কারখানা সরকারি আর্থিক সহায়তা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহজ শর্তে কার্যকর মূলধন সরবরাহ করা হলে দ্রুত কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি তিনি সিএমএসএমই খাতের জন্য ৭ শতাংশ সুদে ঋণ এবং কম ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, আগ্রহী কারখানাগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ে দুটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো হবে।

  • বিষয় :

আরও পড়ুন

×