ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী icon শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তর, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন icon ঢাকা মহানগরীর ২০ জোনে গঠিত হচ্ছে বিশেষ তদারকি কমিটি icon বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব icon দেশে হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু: হাসপাতালে ভর্তি ১৩১৯ জন icon ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু: হাসপাতালে ভর্তি ২০৮৮ জন icon দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার এখন ঋণগ্রস্ত: বিবিএস জরিপ icon সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার icon প্রবাসজীবনের মধ্যেও তারেক রহমান দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন: রিজভী icon বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বে আর কোথাও নেই : রাষ্ট্রপতি 

সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী


                            সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১৮ October ২০২৬ | ২০:৪৮

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ, গৌরবোজ্জ্বল অবদান ও অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।

এই পতাকা অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্পিত দায়িত্ব আরো নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারির সঙ্গে পালনের নতুন শপথ নিতে হয়।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

পরে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পাওয়া সাতটি ইউনিট হলো—৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড কেবল একটি পতাকা নয়, এটি একটি ইউনিটের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারি ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।

তারেক রহমান বলেন, একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না। শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ, জনগণের আস্থা এবং চেইন অব কমান্ডই একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তির ভিত্তি। সশস্ত্র বাহিনীকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমানে যুদ্ধের ধরন ও কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়োপযোগী করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেশে উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না। তাই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার উপযোগী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার পর তৎকালীন অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জনকারী ইউনিটগুলোর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পেশাদারি, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠান‌ শেষে ফেরার পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতানা সালাহউদ্দিন টুকু, ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম প্রমুখ।

বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সড়কের পাশে সবুজায়ন নিশ্চিত করতে এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

  • বিষয় :

আরও পড়ুন

×