ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ
বদলি বাণিজ্য বন্ধে লটারি: বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, চাই পূর্ণাঙ্গ সংস্কার icon দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ঠেকানো গেল না কেন, প্রশ্ন দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে icon আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, নতুন উদ্যোগ সরকারের icon ভারতের মণিপুরে হাঁড়িপাতিল-থালাবাসন-ঢাকঢোল পিটিয়ে বিক্ষোভ, পুলিশের হামলা icon সাজেকে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে ইউপিডিএফ: আইএসপিআর icon সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? প্রশ্ন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের icon ১৪৯ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বিরল রেকর্ড গড়লেন মিচেল স্টার্ক icon বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী icon সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী icon ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

বাপ্পি হত্যা: ঘটনার আগে-পরে কয়েকটি বিষয় নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন


                            বাপ্পি হত্যা: ঘটনার আগে-পরে কয়েকটি বিষয় নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

রাফিদুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ October ২০২৬ | ১২:৫৮

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগরে যুবদলকর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার আগে-পরে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বিষয় নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার আগে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আরিফ ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক সাদ্দামের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আরিফ তার লোকজন নিয়ে অলিনগর এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

এদিকে ওই সময় অলিনগর এলাকায় মসজিদের মাইকে ডাকাতের হামলার আশঙ্কা সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। তবে কার নির্দেশে, কী উদ্দেশ্যে এবং কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফের লোকজন অলিনগরের একটি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে কার্যালয়টি বন্ধ দেখতে পান। তারা সেখানে অবস্থান করার সময় মোটরসাইকেলে করে বাপ্পি ও শাওন সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাদের সঙ্গে উপস্থিত লোকজনের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও বাপ্পি হত্যার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার এই পর্যায়টিই এখন স্থানীয়দের আলোচনার অন্যতম বিষয়। কারণ, কারা আগে থেকে কারও উপস্থিতির বিষয়টি জানতেন, বাপ্পি ও শাওন কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন এবং ওই সময় তাদের সেখানে আসার পেছনে কোনো যোগাযোগ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাস্থল ও আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার আগে-পরে কারা কোথায় ছিলেন এবং কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও যোগাযোগের তথ্য যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সাগর থেকে বালু উত্তোলন এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলেও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেছেন। বাপ্পি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব বিষয় কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কিংবা এর নেপথ্যে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ এখনো নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল যোগাযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্বাপর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।

বাপ্পি হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যে কারও পরিকল্পনা বা অন্য কোনো স্বার্থ কাজ করেছে কি না—তদন্তেই তার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন

×