সীতাকুণ্ডে অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধে যুবদলকর্মী হত্যা প্রধান আসামিসহ ৬ জন গ্রেপ্তার
রাফিদুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ October ২০২৬ | ১১:৫৮
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গুলি করে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পী (২৬) হত্যা এবং তাপসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এক ব্রিফিংয়ে জানান, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই রাতে খাবার খেয়ে তারেক হোসেন বাপ্পী তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সাদ্দামের পুরোনো অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আরিফ ও তাঁর সহযোগীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একপর্যায়ে তারা বাপ্পী ও তাঁর সঙ্গীর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দুজনকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। পরে বাপ্পীকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়। একই সময় অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। বাপ্পীর সঙ্গে থাকা ইমনও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বাপ্পীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, স্থানীয় যুবদল নেতা মো. সাদ্দাম, নিহত বাপ্পী এবং প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং সাগর থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই বাপ্পীকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, পূর্ববিরোধের ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। বাপ্পী সেখানে পৌঁছালে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং পরে তাঁকে গুলি করা হয়।
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ছয় আসামি হলেন-১)মো. আরিফ হোসেন (২৯), পিতা ইসমাইল হোসেন প্রকাশ বিকষু; মধ্যম মাহমুদাবাদ, দিঘীর নালা, ফকির আহম্মদের নতুন বাড়ি, বাড়বকুণ্ড, ২)ফখরুল ইসলাম (৩২), পিতা মৃত নুর আলম; অলিনগর, চৌকিদার বাড়ি, বাড়বকুণ্ড, ৩)আব্দুল মান্নান (২৮), পিতা আবুল কাশেম; নডালিয়া, বাড়বকুণ্ড, ৪)মো. ইফতেখার (৩৫), পিতা মো. মোজ্জামেল হক; অলিনগর, নতুন বদু বাড়ি, বাড়বকুণ্ড, ৫)আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫), পিতা মো. নজরুল ইসলাম; হাসনাবাদ, জিয়াজি হুজুরের বাড়ি, মুরাদপুর এবং ৬) নুর আহাম্মদ রনি , পিতা মৃত জহির ইসলাম; মধ্যম মাহমুদাবাদ, দীঘির নামা, বাড়বকুণ্ড, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ইফতেখার ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। ঘটনার দিন তাদের বাড়িতে তার বোনের মেহেদি অনুষ্ঠান চলছিল বলে তারা জানান। তবে পুলিশ তাকে সকালে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, এলাকায় সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মাদক বিক্রি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করা গেলে এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা ও হত্যাকাণ্ড কমবে বলে তারা মনে করছেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।