স্রোত বাড়ার অজুহাতে বারবার বন্ধ নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি, দুর্ভোগে যাত্রীরা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ October ২০২৬ | ১৮:৪৩
হঠাৎ নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে-এমন কারণ দেখিয়ে পাবনার নাজিরগঞ্জ-রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই রুটে ১৬ দিন বন্ধ ছিল ফেরি চলাচল। তারপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হলেও ৫ অক্টোবর থেকে আবারও বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। দুই জেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ফেরি বন্ধ হওয়ায় বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে মানুষকে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন খরচ।
যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। নদীতে স্রোত বাড়লেই দেখা দেয় সমস্যা। তাদের দাবি, নৌরুটে পর্যাপ্ত সক্ষমতার ফেরি না থাকা, পুরনো ও দুর্বল ফেরি, ঘাটের অব্যবস্থাপনা এবং নাব্যতা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রায়ই ব্যাহত হয় পারাপার। নদীতে স্রোত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী ফেরি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করাই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
পাবনার সুজানগরের ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, আমি নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করি। বেশ কয়েকদিন ফেরি বন্ধ থাকার পর চালু হলো। এখন আবার দেখতেছি বন্ধ। এমন অবস্থায় খুবই বিপদের মধ্যে আছি। কর্তৃপক্ষ এটি দ্রুত চালু করলে সকলের উপকার হবে।
রাজবাড়ীর যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে এই পথে চলাচল করতেছি। মাঝেমধ্যে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই পথে আমাদের সময় কম লাগে এবং খরচ বেঁচে যায়। এখন আমাদের ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, এই রুটে যে সকল ফেরি চলাচল করে সেগুলোর অবস্থা একদম খারাপ। ঝড় আসলেই মনে হয় ভেঙে যাবে। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি এই রুটে নতুন ফেরি দিয়ে যাত্রী ভোগান্তি দূর করুক।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থাপক এম এন এ আল শিবলী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীতে আবারও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, ফেরিগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। এ নৌপথে চলাচলের উপযোগী ফেরি রয়েছে এবং ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই। তবে নদীর স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি চলাচল করানো হবে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পুনরায় ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে।