সেই বিমানে আসলে কী ঘটেছিল?
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০২ October ২০২৬ | ১০:০৬
মাঝআকাশে বিমানের মধ্যে যেন শুরু হয়েছিল হলিউডের থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের একটি বিমানে পাইলটের ওপর অন্য এক পাইলটের চালান অতর্কিত ছুরি হামলা! বিমানটি তখন দ্রুত গতিতে নিচে আছড়ে পড়ার উপক্রম।
তবে আহত পাইলটের অসীম সাহসিকতা এবং যাত্রীদের উপস্থিত বুদ্ধিতে অল্পের জন্য বড় ধরনের আকাশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল ১৭০টি তাজা প্রাণ।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে বুধবার ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনার বিবরণে উঠে আসে, এক ওমানি পাইলট তার ভারতীয় সহকর্মীকে কুপিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করার অপচেষ্টা চালান। বর্তমানে অভিযুক্ত পাইলটকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মাঝআকাশে যেভাবে শুরু হলো তাণ্ডব
স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ৩টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিমানটি।
উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সৌদি আরবের আকাশে থাকাকালীন বিমানটি হঠাৎ রোলারকোস্টারের মতো দ্রুত নিচে নামতে থাকে। ককপিটে চিৎকার শুনে প্রথম বিপদ আঁচ করতে পারেন টালি মানেস নামের এক ইসরায়েলি নারী যাত্রী।
ককপিটের ভেতর তখন এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছিল। ওমানি পাইলট একের পর এক ছুরিকাঘাত করছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে।
গুরুতর জখম হওয়া সত্ত্বেও জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন। দরজা খোলামাত্রই সেখানে ছুটে যান চার ইসরায়েলি যাত্রী ও এক ক্রু সদস্য। রক্তভেজা শরীরে লুটিয়ে পড়া মাচ্ছারের খোলা দরজা দিয়ে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারীকে ঝাপটে ধরেন এবং কাবু করে ফেলেন। পরে যাত্রীদের মাল্টিমিডিয়া হেডফোনের তার ও কেবলের জিপ-টাই দিয়ে ওই হামলাকারীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়।
মৃত্যুকূপ থেকে নিশ্চিত বেঁচে ফেরা
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, হামলা চলাকালীন মাত্র দুই মিনিটের কম সময়ে বিমানটি আকাশ থেকে ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়।
তবে যাত্রীরা ককপিটের দখল নেওয়ার পর ইয়ানিভ হায়ুন নামের এক যাত্রী (পেশায় প্লাম্বার) এবং বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা আরেক ফ্লাইদুবাই ক্রু বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে একটি জরুরি বার্তা (স্কোয়াক ৭৭০০) পাঠিয়ে সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
সৌদি আরবের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বীর পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছার বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তিনি শঙ্কামুক্ত।
‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয় এড়ানো গেছে’
ঘটনার তীব্রতা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সিএনএনকে বলেন, ‘আহত পাইলট ও অদম্য সাহসী যাত্রীরা ৯/১১-এর মতো আরও একটি বড় ধরনের বিশ্ব ট্র্যাজেডি রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্সে (টুইটার) ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘তার সাহসিকতা শত শত জীবন বাঁচিয়েছে। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে নিয়ে পুরো ভারত গর্বিত।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করলেও ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ও আমিরাত সরকার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলতে নারাজ। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে আপাতত দুবাই-ইসরায়েল সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে ফ্লাইদুবাই।
- বিষয় :