সৌদিতে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৫ September ২০২৬ | ১১:৫২
সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবু রক্ষায় ফ্রান্স সেনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাবে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরকে নিরাপদ রাখতে ফ্রান্সের এই সহায়তা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ এ কথা জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানায়, ম্যাখোঁ বলেন, ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা, রাডার ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হবে। তবে এসব সেনা ও সরঞ্জাম কোনো যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য নয়, শুধু বন্দরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা হবে। ফ্রান্সের টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইয়ানবুতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে।
এর মধ্যে সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। এসব ব্যবস্থা বন্দরটি রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে, কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার জন্য নয়। সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনের জন্য ইয়ানবু একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। দেশটির তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান বিকল্প পথও এই বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি ইয়ানবু বন্দর ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণেই বন্দরটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে ফ্রান্স সহায়তা করবে। ম্যাখোঁ একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে না।
দেশে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় ম্যাখোঁ সরকারের ওপর চাপও বাড়ছে। শীত আসার আগে ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে বলে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। ম্যাখোঁ বলেন, জ্বালানি সরবরাহ যাতে বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে ফরাসি সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোও জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে। সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের ভূখণ্ডে সম্ভাব্য রুশ হামলার আশঙ্কার কথাও বলেন ম্যাখোঁ। স্পেনের সংবাদপত্র এল মুন্দোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউরোপের সরকারগুলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)।
তবে এই তথ্য অস্বীকার করেছেন ম্যাখোঁ। তিনি বলেন, সিআইএ ফ্রান্সের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ফ্রান্সও এ ধরনের হামলার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি জার্মানি জানিয়েছে, আগস্টে লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এর পেছনে রাশিয়া দায়ী। রাশিয়ার হুমকি নিয়ে গত সপ্তাহে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের এলিজে প্রাসাদে ডেকে পাঠান ম্যাখোঁ। সেখানে তাদের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন তিনি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে রক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
ম্যাখোঁর ভাষ্য, ইউরোপকে ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান দুর্বল করাই রাশিয়ার লক্ষ্য। তবে রাশিয়া ইউরোপের দেশগুলোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মস্কোর দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড হামলা’র এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত প্রচারণার অংশ। রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাখোঁর অবস্থান নিয়ে চলতি সপ্তাহে ইউরোপের মধ্যেও কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় ফ্রান্স। এ সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য সদস্যদেশগুলো বিস্মিত হয়। ফ্রান্স এ উদ্যোগের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরপর আজারবাইজান গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা করে দেয়।
- বিষয় :