ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ
দুই বছর নয়, এক বছরেই স্থায়ী ২২ অতিরিক্ত বিচারপতি icon জাতিসংঘে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী icon স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রীস্বনির্ভর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী icon দেশ মেরামতে সরকার থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে : প্রধানমন্ত্রী icon নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার icon শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই-আগস্টের শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা icon ৫ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে icon বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় সমঝোতা স্মারক icon জামায়াত দল হিসেবে ‘অকৃতজ্ঞ’: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম icon গঙ্গার পানিবণ্টনে চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

জাতিসংঘে ফিলিস্তিন-ইরান নিয়ে জোরালো পদক্ষেপ চান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী


                            জাতিসংঘে ফিলিস্তিন-ইরান নিয়ে জোরালো পদক্ষেপ চান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৫ September ২০২৬ | ১১:৪৫

ফিলিস্তিন, ইরান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিকভাবে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দিন দিন বেশি চাপের মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন আলবানিজ। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনে শান্তির সম্ভাবনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইরানের কর্মকাণ্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহার এবং জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন। আলবানিজ বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরোধিতা অস্ট্রেলিয়া চালিয়ে যাবে। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনে শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া কথা বলবে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনও রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকার বিরোধিতা করেন আলবানিজ। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় হামাসের সশস্ত্র সদস্যদের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।

ইরান প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়ছে। আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ওই পথে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার পক্ষেও দেশটি অবস্থান নিয়েছে। তিনি ইরানকে অঞ্চলজুড়ে নির্বিচার হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যেকোনো চেষ্টা থেকে সরে আসতেও ইরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ভাষণের একটি বড় অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন আলবানিজ।

তিনি বলেন, এআই স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এই প্রযুক্তি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আলবানিজ বলেন, এআইকে উপেক্ষা করা বা এর ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। বরং সরকারগুলোকে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের দিক নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের উচিত এআইয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শুধু নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়া নয়; বরং প্রযুক্তিটি কিভাবে উন্নত হবে এবং কিভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি ওয়েবসাইটে সম্প্রতি একটি এআইভিত্তিক ব্যবস্থা প্রবেশ করেছিল বলেও জানান আলবানিজ। তিনি ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। এআইয়ের ব্যবহার নিরাপদ ও দায়িত্বশীল রাখার জন্য মানদণ্ড তৈরিতে অস্ট্রেলিয়া যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোও জাতিসংঘের ভাষণে তুলে ধরেন তিনি।

জাতিসংঘের বর্তমান ব্যবস্থায় সংস্কারেরও আহ্বান জানিয়েছেন আলবানিজ। তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর যেন আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরো বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিকভাবে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর উদ্বেগ ও মতামত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া এমন একটি নিরাপদ বিশ্বের পক্ষে, যেখানে কোনো দেশ অন্য দেশকে নিয়ন্ত্রণ করবে না এবং কোনো দেশও অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

  • বিষয় :

আরও পড়ুন

×