ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ
সাজেকে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে ইউপিডিএফ: আইএসপিআর icon সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? প্রশ্ন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের icon ১৪৯ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বিরল রেকর্ড গড়লেন মিচেল স্টার্ক icon বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী icon সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী icon ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস icon জামায়াতের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে এবং তা প্রমাণিত: রিজভী icon উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হলো ভূমিমন্ত্রী মিনুকে icon বাংলাদেশিসহ ১৫৭ অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া   icon সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের বিষয়ে কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

আবার অবরোধ, বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক ছাড়লো ২৯০০ পর্যটক


                            আবার অবরোধ, বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক ছাড়লো ২৯০০ পর্যটক

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ October ২০২৬ | ১২:৩০

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে ফের অবরোধের কারণে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা প্রহরায় পর্যটকদের বহনকারী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে তাদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এর আগে সকাল ৬টার দিকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার বিকেলে সাজেক সড়কে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠন দুটির সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে এ কর্মসূচি শুরুর কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবারের মধ্যে সব পর্যটককে সাজেক ছেড়ে চলে যেতে হবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তবে অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি।

সাজেক রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সারা বছরই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। পর্যটকদের আবাসনের জন্য এলাকায় গড়ে উঠেছে উন্নতমানের কটেজ, হোটেল ও মোটেল। পাশাপাশি রয়েছে আলাদা পরিবহন স্টেশন। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বস্ত্র, খাবার ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর বেচাকেনার মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতা ও অবরোধের কারণে বারবার পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর দুই দিন কর্মসূচি বন্ধ রাখার পর ১৫ অক্টোবর থেকে আবারও সড়ক অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। পরে সাজেকের মাচালং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।

সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া, এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।

আরও পড়ুন

×