ভূমিকম্পের আগেই সতর্কবার্তা
কীভাবে কাজ করে গুগলের আর্থকোয়াক অ্যালার্ট ?
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ June ২০২৬ | ১১:৩৬
হঠাৎ মোবাইল ফোনে ভেসে উঠল লাল সতর্কবার্তা—‘Earthquake Alert’, সঙ্গে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশনা। কয়েক সেকেন্ড পরই শুরু হলো শক্তিশালী ভূমিকম্প। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ভেনেজুয়েলার বহু মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, ভূমিকম্পের আগেই কীভাবে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম হলো গুগল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ভেতরে থাকা অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সরে। এই সেন্সর অস্বাভাবিক কম্পন শনাক্ত করতে পারে এবং সম্ভাব্য ভূমিকম্পের প্রাথমিক সংকেত দ্রুত গুগলের সার্ভারে পাঠায়। একই এলাকায় থাকা একাধিক ফোন থেকে একই ধরনের সংকেত পৌঁছালে গুগল তা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের কাছে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। রাজধানী কারাকাসসহ কয়েকটি অঞ্চল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে অনেক বাসিন্দা কম্পন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই মোবাইলে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন।
যেভাবে কাজ করে অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়াক অ্যালার্ট
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সর ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন বা পি-ওয়েভ (Primary Wave) শনাক্ত করতে পারে। এই তরঙ্গের গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ছয় কিলোমিটার হলেও এর ধ্বংসক্ষমতা তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে, মূল ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী এস-ওয়েভ (Secondary Wave) অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার বেগে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ের ব্যবধানই কাজে লাগায় গুগল। পি-ওয়েভ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য সার্ভারে পৌঁছে যায় এবং এস-ওয়েভ পৌঁছানোর আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল যদি কোনো ব্যবহারকারীর অবস্থান থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে হয়, তাহলে ধ্বংসাত্মক কম্পন পৌঁছানোর আগেই কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য।
দুই ধরনের সতর্কবার্তা
অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়াক অ্যালার্ট সিস্টেম সাধারণত দুটি ধরনের নোটিফিকেশন পাঠায়—
Be Aware Alert: হালকা কম্পনের সম্ভাবনায় সতর্ক থাকতে বলা হয়।
Take Action Alert: মাঝারি বা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সতর্কবার্তায় ক্লিক করলে অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য অবস্থান, মাত্রা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেখা যায়।
বিশ্বের বৃহত্তম ভূমিকম্প শনাক্তকরণ নেটওয়ার্ক
গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়াক অ্যালার্ট সিস্টেম বর্তমানে বিশ্বের ২০০ কোটিরও বেশি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে সক্রিয়। ফলে কোটি কোটি স্মার্টফোন একসঙ্গে কাজ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিস্ট্রিবিউটেড ভূমিকম্প শনাক্তকরণ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।
এই সুবিধা ব্যবহার করতে অ্যান্ড্রয়েড ৫ বা তার পরবর্তী সংস্করণ চালিত ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ (মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই) চালু থাকতে হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কয়েক সেকেন্ড?
ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে কয়েক সেকেন্ডের আগাম সতর্কতা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বল্প সময়ই অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- বিষয় :