সিএনএনের বিশ্লেষণ
ইসরায়েলকে নিয়ে কড়া বার্তা ওয়াশিংটনের
সম্পর্ক নিয়ে বাড়ছে নতুন জল্পনা
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ June ২০২৬ | ১৪:৩৮
বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য এখন আর পুরোপুরি এক নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ইসরায়েলকে ঘিরে জনমত পরিবর্তন হচ্ছে। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলপন্থি রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও দেশটির নীতির সমালোচনা বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইসরায়েলের প্রতি সবচেয়ে সহানুভূতিশীল রাষ্ট্রনেতাদের একজন। তার ভাষ্য, ইসরায়েলের উচিত একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করা।
ভ্যান্স ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করে বলেন, কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সব ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে অতিরিক্ত কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত আগ্রাসী অবস্থান ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।
জি-৭ সম্মেলনেও ট্রাম্প ইসরায়েলের অভিযানের সমালোচনা করেন। তার মতে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নামে বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব কঠোর বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্ক তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে যাচ্ছে। বরং শান্তি আলোচনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান গ্রহণ করে থাকতে পারে।
তবু ট্রাম্প ও ভ্যান্সের প্রকাশ্য সমালোচনা কয়েক দশকের পুরোনো মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
- বিষয় :